<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>মাসিক আল-হুদা</title>
	<atom:link href="http://alhudaonline.com/?feed=rss2" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://alhudaonline.com</link>
	<description>প্রকাশনায় ইসলাম পেজেন্টশন কমিটি-কুয়েত</description>
	<lastBuildDate>Sun, 05 May 2013 15:06:49 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
	<generator>http://wordpress.org/?v=3.5.1</generator>
		<item>
		<title>পরিবার ও পারিবারিক জীবন : ইসলামের দিকনির্দেশনা</title>
		<link>http://alhudaonline.com/?p=1096</link>
		<comments>http://alhudaonline.com/?p=1096#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 05 May 2013 15:06:49 +0000</pubDate>
		<dc:creator>mamunipc</dc:creator>
				<category><![CDATA[Uncategorized]]></category>
		<category><![CDATA[পরিবার ও পারিবারিক জীবন : ইসলামের দিকনির্দেশনা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://alhudaonline.com/?p=1096</guid>
		<description><![CDATA[একজন পুরুষ ও একজন নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যখন একসঙ্গে জীবন যাপন করতে শুরু করে, তখনই একটি পরিবারের ভিত্তি স্থাপিত হয়। এখানে পুরুষকে স্বামী আর নারীকে স্ত্রী বলা হয়। এ দু’য়ের সম্মিলিত ভালবাসাপূর্ণ সামগ্রিক জীবনকেই বলা হয় ‘দাম্পত্য জীবন’। বিয়ে ও দাম্পত্য জীবন বিশ্বপ্রকৃতির এক স্বভাব সম্মত বিধান। এ এক চিরন্তন ও শাশ্বত ব্যবস্থা, যা [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;">
<p style="text-align: justify;">একজন পুরুষ ও একজন নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যখন একসঙ্গে জীবন যাপন করতে শুরু করে, তখনই একটি পরিবারের ভিত্তি স্থাপিত হয়। এখানে পুরুষকে স্বামী আর নারীকে স্ত্রী বলা হয়। এ দু’য়ের সম্মিলিত ভালবাসাপূর্ণ সামগ্রিক জীবনকেই বলা হয় ‘দাম্পত্য জীবন’। বিয়ে ও দাম্পত্য জীবন বিশ্বপ্রকৃতির এক স্বভাব সম্মত বিধান। এ এক চিরন্তন ও শাশ্বত ব্যবস্থা, যা কার্যকর হয়ে আছে বিশ্ব প্রকৃতির পরতে পরতে, প্রত্যেকটি জীব ও বস্তুর মধ্যে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন- ‘প্রত্যেকটি জিনিসকেই আমি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি।’{সূরা ৫১ যারিয়াত, আয়াত-৪৯}</p>
<p style="text-align: justify;">মানুষের পরিবার ও পারিবারিক জীবন হচ্ছে সমাজ জীবনের ভিত্তি প্রস্তর। বিয়ে ছাড়া অন্য কোন পন্থায় পরিবার ও পারিবারিক জীবন গড়ে উঠতে পারে না। পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম আ ও প্রথম মানবী হযরত হাওয়া আকে কেন্দ্র করে মানব জাতির প্রথম পরিবার গড়ে উঠেছিল জান্নাতে। এই প্রথম পরিবারের সদস্যদ্বয় স্বামী ও স্ত্রীকে লক্ষ্য করেই মহান আল্লাহ বলেছিলেন, ‘হে আদম, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে একত্রে বসবাস কর এবং যেখান থেকে মন চায় তোমরা দু’জনে অবাধে পানাহার কর। কিন্তু এই বৃক্ষের নিকটবর্তী হবে না; তাহলে তোমরা অন্যায়কারীদের অন্তর্ভূক্ত হবে।’{সূরা বাকারা, আয়াত-৩৫}</p>
<p style="text-align: justify;">**- বিবাহ কেন্দ্রিক পরিবারের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে মহান আল্লাহ জান্নাতেই আদম ও হাওয়া আ-এর বিবাহের ব্যবস্থা করেন। জান্নাত চির সুখের স্থান। বাধাহীন, কষ্ট-ক্লেশহীন জীবন হল জান্নাতী জীবন। সেই জান্নাতেও কিন্তু বিবাহপূর্ব নারী ও পুরুষের সহঅবস্থান বৈধ করা হয়নি এবং সেখানেও অবাধে পানাহার করার স্বাধীনতার পাশাপাশি একটি মাত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। আর তা হল, একটি নিদিষ্ট বৃক্ষের ফল ভক্ষণের নিষেধাজ্ঞা। শুধু মাত্র ফল ভক্ষণের নিষেধাজ্ঞাই নয়, বরং উক্ত বৃক্ষের কাছে যেতেও নিষেধ করা হয়েছিল। উল্লেখিত আয়াতে ইসলামী পরিবার ও পারিবারিক জীবনের বহু দিকনিন্দেশনা লুকিয়ে আছে। স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ কেন্দ্রিক যে জীবন গড়ে ওঠে, তা মূলত জান্নাতী জীবন। জান্নাতের সুখ-শান্তির কিছুটা নমুনা বিবাহ কেন্দ্রিক বিধিবদ্ধ শরীয়ত সম্মত জীবনের মাঝেই খুঁজে পাওয়া যাবে। বিবাহ কেন্দ্রিক বিধিবদ্ধ শরীয়ত সম্মত জীবন-যাপন ছাড়া দুনিয়াটাই হয়ে উঠবে জাহান্নাম। তাই বিবাহ অনুষ্ঠান সুন্নাত তরীকায় হওয়া উচিত। আজকাল অধিকাংশ বিবাহে গান-বাজনা, বে-পন্দা, অশ্লীলতা, অপচয়, যৌতুক ইত্যাদি নানা কারণে বিবাহ নামক ইবাদতের সাওয়াব ও বরকত থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। সঙ্গত কারণেই দাম্পত্য জীবনের কিছু দিন যেতে না যেতেই শুরু হয় দ্বন্দ¦-কলহ। বিবাহ একটি ইবাদত। তাই, মহানবী সা বিবাহ নামক ইবাদত মসজিদে সম্পন্ন করতে তাকিদ দিয়েছেন। বলেছেন, ‘তোমরা বিবাহ অনুষ্ঠানের ব্যাপক প্রচার কর এবং সাধারণত এর অনুষ্ঠান মসজিদে সম্পন্ন কর।’ {তিরমিযী শরীফ, হাদীস-১০০৯}</p>
<p style="text-align: justify;">বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য ‘মহরানা’ হচ্ছে একটি জরুরী শর্ত। কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে- ‘তোমরা স্ত্রীদের প্রাপ্য মহরানা আদায় করে দাও আন্তরিক খুশির সাথে ও তাদের অধিকার মনে করে। {সূরা ৪ নিসা, আয়াত-৪} আজকাল অধিকাংশ স্বামী স্ত্রীর মহরানা আদায়ের ব্যাপারে চরমভাবে উদাসীন। মহরানা যে স্ত্রীর অধিকার, অনেক স্বামী তা বোঝেই না। আবার কোন কোন বিবাহে এত বেশি পরিমানে মহরানা নির্ধারণ করা হয়, যা স্বামীর পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। তারপরও শুধুমাত্র সামাজিক কারণে বা লৌকিকতার কারণে বা কারো চাপে পড়ে সামর্থের বাইরে মহরানা নির্ধারণ করা হয়। অথচ হাদীস শরীফে হুজুর সা ইরশাদ করেন, ‘সবচেয়ে উত্তম বিবাহ যাতে খরচ কম ও সহজসাধ্য।’ {আবু দাউদ শরীফ, হাদীস-১৮০৮}</p>
<p style="text-align: justify;">একদিকে সামর্থের বাইরে মহরানা নির্ধারণ, আরেক দিকে যৌতুকের অভিশাপ। স্বামী যেহেতু যৌতুক নিচ্ছে, সম্ভবত সে কারণেই মহরানাটাও অযৌক্তিক ও সামর্থের বাইরে নির্ধারণ করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য হল, যদি কখনো ছাড়াছাড়ি (তালাক) হয়ে যায়, তাহলে আদালতের মাধ্যমে উক্ত টাকা যেন উসূল করে নেয়া যায়। হায় আফেসোস বিবাহের মত একটি পবিত্র ইবাদতের শুরুতেই অবিশ্বাসের বীজ বপন করা হচ্ছে। যে দাম্পত্য জীবনের শুরুটাই হচ্ছে অশ্লীলতা, গান-বাজনা, বেহায়াপনা, বে-পন্দা আর অবিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে, ঐ দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তির আশা করা যায় কি?</p>
<p style="text-align: justify;"> পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ইসলামের দৃষ্টিতে বিশেষ একটি গুণ যাচাই করে দেখা আবশ্যক। সে গুণটি হচ্ছে, ‘কনের দ্বীনদার ও ধার্মিক হওয়া’। এ সম্পর্কে রাসূল সা ইরশাদ করেন, ‘চারটি গুণের কারণে একটি মেয়েকে বিবাহ করার কথা বিবেচনা করা হয়। তার ধন-সম্পদ, তার বংশ গৌরব-সামাজিক মান-মর্যাদা, তার রূপ-সৌন্দর্য এবং দ্বীনদারী। কিন্তু তোমরা দ্বীনদার মেয়েকে বিবাহ করে সফলতা অর্জন কর।’ {বুখারী শরীফ, হাদীস-৪৭০০} উল্লেখিত হাদীসে চারটি গুণের মাঝে সর্বশেষ গুণটাই মূখ্য। প্রথম তিনটি গুণ বিদ্যমান থাকার পরেও যদি শেষের গুণ-দ্বীনদারী না থাকে, তাহলে প্রথমোক্ত তিনটি গুণ মূল্যহীন হয়ে যাবে। উল্লেখিত হাদীসটির ভাষা অপর এক বর্ণনায় এরূপ উদ্ধৃত হয়েছে- ‘তোমরা মেয়েদের কেবল তাদের রূপ-সৌন্দর্য দেখেই বিয়ে করো না। কেননা, এ রূপ-সৌন্দর্য অনেক সময় তাদের ধ্বংসের কারণ হতে পারে। তাদের ধন-সম্পদের লোভে পড়েও বিয়ে করবে না। কেননা এ ধন-সম্পদ তাদের বিদ্রোহী ও অনমনীয় বানাতে পারে। বরং তাদের দ্বীনদারীর গুণ দেখেই তবে বিয়ে করবে। বস্তুত একজন দ্বীনদার কৃষ্ণাঙ্গ দাসীও অনেক ভাল। {ইবনে মাযাহ শরীফ, হাদীস-১৮৪৯} হযরত আদম ও হাওয়া আ-এর জান্নাতে বিবাহ ও অবাধে পানাহার করার সুযোগ দেয়ার পরেও একটি বৃক্ষের নিকট যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। এতে করে বিধিবদ্ধ জীবন-যাপনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ এই জান্নাতে চিরস্থায়ীভাবে থাকতে চাইলে পৃথিবীতে অবতরণ করে বিধিবদ্ধ শরীয়ত সম্মত জীবন-যাপন করে আসতে হবে। তবেই না বাধাহীন চির সুখের জান্নাতে প্রবেশ করা যাবে।</p>
<p style="text-align: justify;">মুসলিম পারিবারিক জীবনের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট হল স্বামী-স্ত্রীর একত্রে অবস্থান করা। স্বামী-স্ত্রীর একত্রে অবস্থান করার ব্যাপারে স্ত্রী স্বামীর অনুগত থাকবে। অর্থাৎ স্বামী যেখানে অবস্থান করবে, স্ত্রীকেও সেখানেই অবস্থান করতে হবে। কিন্তু পানাহারের ব্যাপারে উভয়ে স্বাধীন। অর্থাৎ স্বামী যা খাবে, স্ত্রীকেও তাই খেতে হবে, এমন বাধ্যবাধকতা ইসলামে নেই। পবিত্র কুরআনে স্বামী-স্ত্রীর অবস্থান করা সংক্রান্ত বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দু’টি বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে। এবং একটি বাক্যকে অপর বাক্যের সাথে জুড়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু পানাহার সংক্রান্ত বিষয়ে একটি বাক্যেই তা বোঝানো হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আরো ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা স্ত্রীদের সাথে খুব ভাল ব্যবহার ও সৎভাবে বসবাস করো। তোমরা যদি তাদের অপছন্দ কর, তাহলে হতে পারে যে, তোমরা একটা জিনিসকে অপছন্দ করছ, অথচ আল্লাহ তার মধ্যে বিপুল কল্যাণ নিহিত রেখেছেন। {সূরা ৪ নিসা, আয়াত-১৯}</p>
<p style="text-align: justify;">স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক দায়-দায়িত্ব, অধিকার, কর্তব্য ইত্যাদি বিষয়ে ইসলামে সুস্পষ্ট দিকনিন্দেশনা রয়েছে। স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে সম্পর্ক কেমন হবে, তা খুব চমৎকারভাবে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘স্ত্রীরা হচ্ছে তোমাদের জন্য পোশাক স্বরূপ।’ {সূরা ২ বাকারা, আয়াত-১৮৭} অর্থাৎ পোষাক যেমন মানবদেহকে আবৃত করে দেয়, তার নগ্নতা ও ও কুশ্রীতা প্রকাশ হতে দেয় না এবং সব রকমের ক্ষতি-অপকারিতা থেকে বাঁচায়, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের জন্য ঠিখ তেমনি। পোশাক যেমন দেহের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, তদ্রুপ স্বামী-স্ত্রীও পরস্পরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে সচেষ্ট থাকবে। পোশাক যেমন দেহের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে লেগে থাকে, তদ্রুপ স্বামী-স্ত্রীও একে অপরের সুখে-দুখে অঙ্গাঙ্গিভাবে লেগে থাকবে।মহান আল্লাহ পারিবারিক জীবনের মধুময়তা প্রসঙ্গে ইরশাদ করেন, ‘এবং আল্লাহর একটি বড় নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে সঙ্গীনি গ্রহণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, যেন তোমরা সে সঙ্গীনির কাছ থেকে পরম পরিতৃপ্তি লাভ করতে পার। আর তোমাদের মাঝে তিনি প্রেম-ভালবাসা, দরদ-মায়া ও প্রীতি-প্রণয় সৃষ্টি করে দিয়েছেন। {সূরা রূম, আয়াত-২১}</p>
<p style="text-align: justify;">পরিবার ও পারিবারিক জীবনে ইসলামী অনুশাসন না থাকলে উল্লেখিত প্রেম-ভালবাসা, দরদ-মায়া এগুলো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। বরং দ্বন্দ্ব-কলহ, সন্দেহ, অমিল-অশান্তি- এগুলো বাসা বেঁধে স্বাভাবিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলবে। বিশেষ করে বর্তমানে স্যাটেলাইটের যুগে অপসংস্কৃতির সয়লাবে আমাদের পারিবারিক জীবন হুমকির মুখে পতিত হয়েছে। স্যাটেলাইটে প্রদর্শিত উলঙ্গপনা ও বেহায়াপনা আমাদের সমাজ জীবনকে কলুষিত করে তুলছে। হত্যা-ব্যভিচার ইত্যাদি এখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। আমাদের পোশাক-আশাকেও এসেছে উলঙ্গপনার ছাপ। বয়ফ্রেন্ড ও গার্লফ্রেন্ডের সংস্কৃতি এখন আমাদের দেশেও চালু হতে শুরু করেছে। ‘ফাদার ডে’ আর ‘মাদার ডে’ পালন করে পরিবার ও পারিবারিক জীবনে সুখ আসবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাদের পরিবার ও পারিবারিক জীবনে সুন্নাতে নববী সা-এর পূর্ণাঙ্গ অনুশাসন আমরা মেনে চলব। আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে পরিবার থেকেই সততা, ন্যায়-নিষ্ঠা, সত্যবাদিতা, পরস্পরে শ্রদ্ধাবোধ, আদব-কায়দা তথা ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। সাত বছর বয়স থেকেই নামাযের শিক্ষা, দশ বছর হলে নামায না পড়লে শাস্তির ব্যবস্থা করা, কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষা দেয়া, ইত্যাদির প্রতি অধিক তাকিদ দিতে হবে। অন্যথায় আমাদের পারিবারিক জীবন অশান্তিময় হয়ে উঠবে। পরিবারই হল মৌলিক বিদ্যাপীঠ। এখান থেকেই সুশিক্ষার সূচনা করতে হবে। আর এই সুশিক্ষা কুরআন ও হাদীসের শিক্ষা গ্রহণ করা ছাড়া অন্য কোন ভাবেই সম্ভব নয়। এ জন্যেই রাসূল সা ইরশাদ করেছেন, ‘ইলম (কুরআন হাদীসের জ্ঞান) অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের (নারী-পুরুষ) উপর ফরজ।’ {ইবনে মাযাহ, হাদীস-২২০}</p>
<p style="text-align: justify;">আজ আমরা শুধু উপার্জনমুখী বিদ্যা শিখতে আগ্রহী বেশি। মানবতামুখী বিদ্যা শিখতে আমাদের কোন তৎপরতাই লক্ষ্য করা যায় না। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাযত করুন। আমীন</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://alhudaonline.com/?feed=rss2&#038;p=1096</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বিদআতের বেড়াজালে ইবাদাত</title>
		<link>http://alhudaonline.com/?p=1094</link>
		<comments>http://alhudaonline.com/?p=1094#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 05 May 2013 15:03:40 +0000</pubDate>
		<dc:creator>mamunipc</dc:creator>
				<category><![CDATA[Uncategorized]]></category>
		<category><![CDATA[বিদআতের বেড়াজালে ইবাদাত]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://alhudaonline.com/?p=1094</guid>
		<description><![CDATA[মাসুদা সুলতানা রুমী কুরআন হাদিসের সঠিক জ্ঞান যার  আছে ইবলিশ তাকে কমই ধোকা দিতে পারে। অতএব জ্ঞান অর্জনের জন্য মাহফিলে আসতে ইবলিশ বিভিন্ন ভাবে মানুষ কে বাধা দেয়। আর এই নামাযের ব্যাপারটা তো ভিন্ন। মনে রাখতে হবে সব ফরজ ইবাদত করতে হয় প্রকাশ্যে আর নফল ইবাদত করতে হয় গোপনে। যেমন ফরজ যাকাত দিতে হয় প্রকাশ্যে-সম্পদের [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;">মাসুদা সুলতানা রুমী</p>
<p style="text-align: justify;">কুরআন হাদিসের সঠিক জ্ঞান যার  আছে ইবলিশ তাকে কমই ধোকা দিতে পারে। অতএব জ্ঞান অর্জনের জন্য মাহফিলে আসতে ইবলিশ বিভিন্ন ভাবে মানুষ কে বাধা দেয়। আর এই নামাযের ব্যাপারটা তো ভিন্ন। মনে রাখতে হবে সব ফরজ ইবাদত করতে হয় প্রকাশ্যে আর নফল ইবাদত করতে হয় গোপনে। যেমন ফরজ যাকাত দিতে হয় প্রকাশ্যে-সম্পদের সঠিক হিসাব করে। ইসলামী রাষ্ট্র হলে তো সরকারি কর্মচারীই হিসাব করে যাকাত আদায় করে নিয়ে যেতো।</p>
<p style="text-align: justify;">আর নফল দান সদকা করতে হবে গোপনে ,বলা হয়েছে ডান হাত দিলে যেনো বাম হাত তা না জানে। তেমনি ফরজ নামায পড়তে হবে প্রকাশ্যে পুরুষদের জন্য তো অবশ্যই জামায়াতে। আর নফল নামায পড়তে হবে গোপনে। নফল নামায পড়ে তা মানুষের কাছে বলতে নিষেধ করা হয়েছে। সেই নফল যদি হৈ হৈ করে গোটা মহল্লার মেয়েরা একত্রিত হয়ে পড়ে তাহলে কি তা ইবাদত হবে? তাতে কি সওয়াব পাওয়া যাবে? ইবলিশ জানে এ ভাবে পড়লে কোন সওয়াব পাওয়া যাবে না আর ঠিক তাই সালাতুল তাজবিহর দাওয়াত কাউকে দিতে হয় না-যে কোন ভাবে একবার কানে শুনলেই তার দিলের মধ্যে ইবলিশ এমন আবেগ সৃষ্টি করে দেয় যে সে না এসে পারে না। অথচ  এতে সময় নষ্ট হওয়া ছাড়া তার আমলনামায় আর কিছুই জুটবে না। কারণ  এই নামায পড়ার নিয়ম নিরিবিলি একাকী। এতো লোকের মধ্যে প্রকাশ্যে নয়। এই কথা জানার পর শোনার পরও যারা সওয়াবের আশায় এভাবে সালাতুল তাজবিহ পড়তে আসে যারা এর আয়োজন করে দাওয়াত দেয় তারা সবাই বিদআতিতে  লিপ্ত। এই ভাবে সালাতুত তাজবিহ পড়া বিদাআত।</p>
<p style="text-align: justify;">বিভিন্ন ধরনের দরুদঃ- দরুদ পড়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণীত। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি রাসুল (সাঃ) এর উপর একবার দরুদ পাঠ করবে আল্লাহ ও তার ফেরেশতাগন তার উপর সত্তরবার দরূদপাঠ করবেন।(আহমাদ)</p>
<p style="text-align: justify;">হযরত আবু হুরায়রা থেকে বর্নীত। তিনি বলেন রাসুল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি পূর্ণ মাপে বেশী বেশী সওয়াব লাভে আনন্দিত হতে চায় সে যেন আমার উপর দরুদ পাঠ করে।”(আবু দাউদ)</p>
<p style="text-align: justify;">সাহাবীরা পড়েছেন রাসুল (সাঃ) এর শিখিয়ে দেওয়া দরুদ। রাসুল (সাঃ) বেশ কিছু দরুদ শিখিয়েছেন তার মধ্যে তিনি সব চেয়ে পছন্দ করতেন দরুদে ইব্রাহীম। এই দরুদে ইব্রাহীম ই সাহাবী, তাবেয়িগন বেশী বেশী পড়তেন। অথচ সেই দরুদ বাদ দিয়ে বর্তমান রাসুলের তথাকথিত আশেকানরা সওয়াবের আশায় কিছু মনগড়া দরুদ তৈরী করে নিয়েছে। অযিফা নামক একখানা কিতাবে লিপিবদ্ধ করে তা আবার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবার ব্যবস্থাও করেছে। যেমন,দরুদে হাজারি, দরুদে লাখি, দরুদে মাহী, দরুদে হাবিবি। অনেক।</p>
<p style="text-align: justify;">দরুদে লাখি সম্পর্কে বলা হয় সুলতান মাহমুদ স্বপ্নে দেখেছেন ‘এই দরুদে লাখি যে একবার পড়বে, একলক্ষ বার অন্য দরুদ পড়ার সওয়াব তার আমল নামায় লেখা হবে।</p>
<p style="text-align: justify;">দরুদে হাজারি সম্পর্কে বলা হয় এই দরুদ একবার পড়লে অন্য দরুদ হাজার বার পড়ার সওয়াব তার আমল নামায় লেখা হবে। অন্য দরুদ বলতে কি বোঝানো হয়? নিশ্চয়ই দরুদে ইব্রাহীম যা সব সময় আমরা পড়ি।</p>
<p style="text-align: justify;">আর ঐ সব দরুদ পড়লে যে হাজার গুন,লক্ষগুন সওয়াব বেশী হবে তা এই সব দরুদ ওয়ালাদের কাছে কে বল্ল?</p>
<p style="text-align: justify;">রাসুল (সাঃ) এর কথার চেয়ে সুলতান মাহমুদের স্বপ্নের বেশী গুরুত্ব হয়ে গেলো এই সব আশেকানে রাসুলদের কাছে।</p>
<p style="text-align: justify;">এদিকে কোরআন হাদিস না পড়ে না বুঝে আমরা যে সব মুসলমান তারা অধিক সওয়াবের আশায় এই সব দরুদ পড়ি। একটু ভাবারও প্রয়োজন বোধ করিনা রাসুল (সাঃ) এর শিক্ষার বিপরীতে এই সব দরুদ আমরা কোথায় পেলাম?</p>
<p style="text-align: justify;">     দরুদের মতো কিছু মনগড়া নামাজও আছে যা সওয়াবের আশায় মুসলমানরা পড়ে। আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে-নামাজ, রোজা, দোয়া দরুদ যাই করিনা কেনো রাসুল (সাঃ) যে ভাবে যে কাজ করতে বলেছেন আমাদের সেইভাবে সেই কাজ করতে হবে। রাসুল (সাঃ) বলেছেন “তোমরা যদি তোমাদের নবীর সুন্নত ছেড়ে দাও তাহলে নিঃসন্দেহে তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে।” সাহাবা, তাবেয়ীন, তাবে-তাবেয়ীন এবং পরবর্তী বুজুর্গানে দ্বীন কেউ কোনোদিন মিলাদ পড়েন নি। মনগড়া দরুদ পড়েন নি। তারা সবসময় রাসুল (সাঃ) এর শেখানো দরুদে ইব্রাহীম পড়েছেন। তারাই ছিলেন রাসুল (সাঃ) এর সত্যিকারের আনুগত্যকারী ও সুন্নতের অনুসারী।</p>
<p style="text-align: justify;">স্বঘোষিত তথাকথিত রাসুল প্রেমিকেরা এইসব বিদআতি দরুদের মতো নামাজেরও বিদআতি পদ্ধতি তৈরী করে নিয়েছে। এবং তা সাধারন জনগনের মধ্যে বিভিন্ন বই পুস্তক এবং ওয়াজের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify;">আরও অসংখ্য বিদআতে ভরে আছে আমাদের ধর্মীয় চেতনা।</p>
<p style="text-align: justify;">উপরে বর্নিত দশটি বিদআত যা আমাদের সমাজে ইবাদাত নামে পরিচিত তার সাথে আল কোরআন কিংবা হাদিসের ণূন্যতম সম্পর্কও নেই। উপরে বর্নিত কাজগুলো সম্পূর্ণরূপে বিদআত-বিদআত-এবং বিদআত।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://alhudaonline.com/?feed=rss2&#038;p=1094</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>শাসক চাই ওমরের মতো</title>
		<link>http://alhudaonline.com/?p=1089</link>
		<comments>http://alhudaonline.com/?p=1089#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 05 May 2013 14:59:10 +0000</pubDate>
		<dc:creator>mamunipc</dc:creator>
				<category><![CDATA[Uncategorized]]></category>
		<category><![CDATA[শাসক চাই ওমরের মতো]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://alhudaonline.com/?p=1089</guid>
		<description><![CDATA[ মুহাম্মদ আবদুল খালেক (সন্দ্বীপ) লাভের টাকা বায়তুলমালে দাও কেউ যখন রাজা হয় তার কি কোন কিছুর অভাব থাকে?  থাকেনা। একজন রাজার থাকে উজির-নাজির, পাইক-পেয়াদা। থাকে দাস-দাসী। অন্যদিকে থাকে অট্টালিকা, বালাখানা। রাজ্যের সমস্ত ধন-সম্পদের মালিক হয়ে যায় তখন রাজা। যত রকমের সুযোগ সুবিধা সব নিজের জন্যে। ছেলে-মেয়েদের জন্য আর তার নিজের লোকদের জন্য। কিন্তু আমরা বলছি [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;"><a href="http://alhudaonline.com/wp-content/uploads/2013/05/P14-2.jpg"><img class="alignright size-medium wp-image-1090" alt="P14-2" src="http://alhudaonline.com/wp-content/uploads/2013/05/P14-2-300x225.jpg" width="300" height="225" /></a> মুহাম্মদ আবদুল খালেক (সন্দ্বীপ)</p>
<p style="text-align: justify;">লাভের টাকা বায়তুলমালে দাও</p>
<p style="text-align: justify;">কেউ যখন রাজা হয় তার কি কোন কিছুর অভাব থাকে?  থাকেনা। একজন রাজার থাকে উজির-নাজির, পাইক-পেয়াদা। থাকে দাস-দাসী। অন্যদিকে থাকে অট্টালিকা, বালাখানা। রাজ্যের সমস্ত ধন-সম্পদের মালিক হয়ে যায় তখন রাজা। যত রকমের সুযোগ সুবিধা সব নিজের জন্যে। ছেলে-মেয়েদের জন্য আর তার নিজের লোকদের জন্য।</p>
<p style="text-align: justify;">কিন্তু আমরা বলছি এমন এক রাজার কথা কথা। যার ছিলনা কোন বালা খানা। ছিলনা সুরম্য রাজ প্রাসাধ। খেজুর পাতার বিছানা ছিল তার নিত্য সঙ্গী। নিজের সরকারী সস্পত্তি অন্যায়ভাবেতো দুরের কথা প্রাপ্য অংশটাও ভোগ করতেন না। আর কাউকে তা ভোগ করতেও দিতেন না। তিনি হলেন ফারুকে আযম হযরত ওমর ফারুক।</p>
<p style="text-align: justify;">একবার তার ছেলে একটি উট কিনে ছিলেন। উটটি দেখতে তেমন ভাল ছিলনা। দূর্বল উট। তার হাড়ঁগুলো গোনা যেত। আর এরকম একটা শুকনো উটের দামই বা কত? খুবই কম দাম দিয়ে এটি কিনে নিয়ে আসেন আবদুল্লহ। কিন্তু এরকম দুর্বল উট দিয়ে কি হবে। তিনি ভাবলেন এটাকে মোটাতাজা করতে হবে। তাই তিনি সরকারী খামারে কিছু দিনের জন্য উটটাকে ছেড়ে ছিলেন। কিছুদিন সরকারী খামারে ভাল খাবার পেয়ে উটটি মোটা তাজা হয়ে উঠলো। দেখতেও খুব সুন্দর হলো।</p>
<p style="text-align: justify;"><a href="http://alhudaonline.com/wp-content/uploads/2013/05/P14-1.jpg"><img class="alignright size-medium wp-image-1091" alt="P14-1" src="http://alhudaonline.com/wp-content/uploads/2013/05/P14-1-300x256.jpg" width="300" height="256" /></a></p>
<p style="text-align: justify;">একদিন আবদুল্লাহ এই মোটাতাজা উটটিকে বিক্রি করতে নিয়ে গেলেন। হযরত ওমর ছিলেন তখন সেখানে। তিনি দেখলেন তার ছেলে সুন্দর একটি উট বিক্রি করছে। তিনি এগিয়ে গিয়ে তার ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেন: এই উট তুমি কোথায় পেলে? আবদুল্যা জবাব দিল এটি আমি কিনেছিলাম। খুব দুর্বল ছিল। দামও ছিল কম। ওমর বললেন কই আগেতো দেখিনি? আবদুল্লা জবাব দিল এটিকে আমি কিছু দিনের জন্যে সরকারী খথামাওে ছেড়ে দিয়েছিলাম। ওখানে ভাল খাবার পেয়ে এমন বলিষ্ঠ ও সন্দির হয়েছে। হযরত ওমর তখন আর তাকে কিছু বললেন না। উটটা খুব ভাল দামে বিক্রি হয়ে গেল। বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর হযরত ওমর তার ছেলেকে ডেকে বললেন: “উটের আসল দাম রেখে বাকী টাকা তুমি বায়তুল মালে জমা দিয়ে দাও” কারণ হযরত ওমর জানতেন সরকারী খামারে আবদুল্লাহর অধিকার নেই। সে উটটিকে ওখানে ছেড়ে দিয়ে যে লাভবান হয়েছে ওটা তার হতে পারেনা। এই হলেন শাসক। এই হলেন অর্ধজাহানের খলীফা। আমীরুল মোমেনীন হযরত ওমর ফারুক (রা:)।</p>
<p style="text-align: justify;">লিখে দাও ওমরের কাছে আমার কোন দাবী নাই</p>
<p style="text-align: justify;">হযরত ওমর একদিন হেটে কোথাও যাচ্ছিলেন। কিছু দুর যাওয়ার পরই দেখলেন এক বৃদ্ধাকে। বৃদ্ধা কি যেন বিড় বিড় করছে। হযরত ওমর তার কাছে গেলেন। তার খোঁজ-খবর নিলেন। জিজ্ঞাসা করলেন: আচ্ছা বুড়ি মা, খলীফা ওমর সম্পর্কে তোমার ধারনা কি? বুড়ি হযরত ওমরকে আগে কখনো দেখেনি। তাই তাকে সে চিনতে পারেনি। বুড়ি হযরত ওমর এর কথা শুনে কিছুটা বিরক্ত হলো। বললো: ওমর টোমর দিয়ে আমি কি করবো। আমার কি এমন ঠেকা পড়লো যে তার খবর আমাকে নিতে হবে। নিজের চিন্তায় বাঁচিনা। বুড়রি কথায় ছিল রাগ আর অসন্তোষের ছাপ। হযরত ওমর আবার তাকে জিজ্ঞাসা করলেন। বুড়ি মা, ওমরের উপর তোমার এতো রাগ কেন? বুড়ি চেঁচিয়ে জবাব দেয়: রাগ হবেনা কেন? এই যে খলীফা হয়েছে সে, তো আমায় একটি পয়সাও দিয়েছে? নাকি কোন দিন আমার খোজ-খবর নিয়েছে যে আমি কি হালতে আছি। ও মানুষনা।</p>
<p style="text-align: justify;">হযরত ওমর বুড়ির কথা শুনে বড়ই চিন্তিত হলেন। ঠিকইত আমি তো তার তোন খোঁজ-খবর নিতে পারিনি। তিনি কিছুটা নরম হয়ে বুড়িকে আবার বললেন: আচ্ছা তুমি কি অবস্থায় আছো ওমর কি কওে জানবে? তুমি গিয়ে ওমরকে সব জানিয়ে আসলেই তো পারতে। বুড়ি জবাব দেয় কেন? আমি জানাতে যাব কেন? ওমরইতো আমীরুল মোমেনীন। সে-তো সবার খোঁজ-খবর নিবে বলে রাষ্ট্রের দায়ীত্ব গ্রহণ করেছে। প্রত্যেকের খোঁজ-খবর রাখার দায়িত্ব তো তারই। রুক্ষ ভাষায় বৃদ্ধা জবাব দিল। হযরত ওমর শান্তভাবে আবার বললেন- আচ্ছা “ওমর ফলীফা হওয়ার পর তুমি যে কষ্ট পেয়েছ, সে কষ্টের বিনিময়ে তুমি কত টাকা পেলে ওমরকে মাফ করে দিবে?” বৃদ্ধার সাথে এসব কথা চলছে। এমন সময় হযরত আলী ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) এসে হাজির হলেন। তারা হয়তো কোথাও যাচ্ছিলেন। এসেই সালাম দিলেন। আস্সালামু আলাইকুম ইয়া আমীরুল মু’মিনীন! আগন্তুক দুই ব্যক্তির মুখে আমীরুল মু’মিনীন শব্দ শুনে বৃদ্ধা তাজ্জব হয়ে গেল। সে ভয়ে কাঁপতে লাগলো। আর ভাবতে লাগলো সে হযরত ওমরের সামনেই তাকে এত গালমন্দ করেছে। দারুন অনুতপ্ত হলো বুড়ি। হযরত ওমর বৃদ্ধাকে শান্তনা দিলেন। আর বৃদ্ধার হাতে পচিশটি স্বর্ণ মুদ্রা দিয়ে বললেন: “বুড়ি মা! তুমি এই চামড়ায় লিখে দাও যে কেয়ামতের দিন ওমরের কাছে আমার কোন দাবী নাই”। বৃদ্ধা তখন তাই করলো। চামড়ার উপর তা লিখে দিল বৃদ্ধা। আর হযরত আলী (রা:) সাক্ষী হিসেবে তাতে উপর দস্তখত করলেন।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://alhudaonline.com/?feed=rss2&#038;p=1089</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>তাকদীর বা ভাগ্যলিপির উপর ঈমান</title>
		<link>http://alhudaonline.com/?p=1086</link>
		<comments>http://alhudaonline.com/?p=1086#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 05 May 2013 14:50:03 +0000</pubDate>
		<dc:creator>mamunipc</dc:creator>
				<category><![CDATA[Uncategorized]]></category>
		<category><![CDATA[তাকদীর বা ভাগ্যলিপির উপর ঈমান]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://alhudaonline.com/?p=1086</guid>
		<description><![CDATA[ভূমিকাঃ  সুমহান সৃষ্টিকর্তা ও পরম প্রতিপালক বলছেন ঃ “তুমি একনিষ্ট হয়ে নিজেকে দ্বীনে (ইসলামের জীবন বিধানে) প্রতিষ্ঠিতকর। আল্লাহর প্রকৃতির অনুস¦রন কর, যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরবর্তন নেই । এটা সরল দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না। বিশুদ্ধ চিত্তে তাঁর অভিমূখী হয়ে তাঁকে ভয় কর। তোমরা নামায কায়েম কর এবং [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;"><a href="http://alhudaonline.com/wp-content/uploads/2013/05/Page12.jpg"><img class="alignright size-medium wp-image-1087" alt="Page12" src="http://alhudaonline.com/wp-content/uploads/2013/05/Page12-200x300.jpg" width="200" height="300" /></a></p>
<p style="text-align: justify;">ভূমিকাঃ  সুমহান সৃষ্টিকর্তা ও পরম প্রতিপালক বলছেন ঃ “তুমি একনিষ্ট হয়ে নিজেকে দ্বীনে (ইসলামের জীবন বিধানে) প্রতিষ্ঠিতকর। আল্লাহর প্রকৃতির অনুস¦রন কর, যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরবর্তন নেই । এটা সরল দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না। বিশুদ্ধ চিত্তে তাঁর অভিমূখী হয়ে তাঁকে ভয় কর। তোমরা নামায কায়েম কর এবং মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত হয়ো না । যারা নিজেদের দ্বীনের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে (উপদলে) বিভক্ত হয়েছে, প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতমাদ নিয়ে উৎফুল্ল । মানুষকে যখন দূঃখ দৈন্য স্পশ করে তখন তারা বিশুদ্ধ চিত্তে তাদের প্রতিপালককে ডাকে, অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহের আস্বাদন গ্রহণ করান তখন তাদের একদল তাদের প্রতিপালকে শরীক সাব্যস্ত করে থাকে। (সূরাঃ রূমঃ ৩০-৩৩) ।</p>
<p style="text-align: justify;"> উপরিউক্ত সর্বশেষ আয়াতের উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমাদের মুসলমানের মধ্যে কেউ কেউ বলেন যে, খাঁজা বাবা আমাদেরকে সন্তান দিয়েছেন। নাউযুবিল্লাহ। এছাড়া কিছুদিন পূর্বে পত্রিকায় দেখতে পেলাম যে, আমাদের বাংলাদেশের একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের মুসলমান মন্ত্রী বলেছিলেন যে,“ভারত (বাংলাদেশকে) পানি দেয়ার ফলেই বাংলাদেশে বাম্পার ফলন হয়েছে। এবং সেই দলের সর্বোচ্চ আসনের ক্ষমতাধর নেতা আরো একধাপ বাড়িয়ে বলেছেন: “আমরা ছোটকালে আমাদের মা-খালা এবং মুরুব্বীদেরকে বলতে শুনেছি যে, যে বছর ‘মা দূর্গা’ গজে চরে আসেন সে বছর নাকি জমিনের ফসল ভালো হয়। আর এ বছরও ‘মা দূর্গা’ গজে চরে এসেছেন তাই আমাদের দেশের ফসল ভালো হয়েছে।”</p>
<p style="text-align: justify;">তাহলে খাজাবাবা কি সন্তান দেয়ার মালিক? নাকি ভারত পানির মালিক? নাকি ‘মা দূর্গা’ ফসল ফলানোর মালিক? এ তিনটি কথার মধ্যে একটি কথাও সঠিক নয়। এ কথাগুলোর মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার সাথে শরীক করা হয়েছে। মূল কথা হচ্ছে, কাউকে সন্তান দেয়া বা কোন এলাকায় পানি বর্ষন করা এবং জমিনের ফসল হ্রাস বৃদ্ধির একমাত্র ক্ষমতা শুধুমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালার। তাই দয়াময় আল্লাহ তা’য়ালা বলছেন ঃ</p>
<p style="text-align: justify;">আল্লাহই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদেরকে রিযিক দিয়েছেন, তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন ও পরে তোমাদেরকে (শেষ বিচারের দিন) জীবিত করবেন । তোমাদের শরীকদের এমন কেউ আছে কি যে, এসবের কোন একটিও করতে পারে ? তারা যাদেরকে শরীক করে আল্লাহ তা হতে পবিত্র, মহান । মানুষের কৃতকর্মের কারণে সমুদ্রে ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে যার ফলে তাদেরকে কোন কোন কর্মের শাস্তির স্বাধ তিনি (এ দুনিয়াতে)  আস্বাদন করান, যাতে তারা (তাওবা করে আল্লাহর পথে) ফিরে আসে। (সূরাঃ রূমঃ ৪০-৪১)।</p>
<p style="text-align: justify;"> আজ আমরা যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো সেটি মানবজাতির জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর তা জানা ও বুঝার তারতম্যের ফলে আমরা আমাদের অজ্ঞতার কারণে কখনও কখনও এমনভাবে শিরক করছি, যার জন্যে আমাদের অজান্তেই আল্লাহর নিকট মহাপাপি হিসেবে পরিগনিত হয়ে জাহান্নামে চিরস্থায়ী জীবন-যাপনের পথ প্রশস্ত করছি। যার তিনটি উদাহরণ উপরে বর্নিত হয়েছে। তবে বিষয়টি বুঝার জন্যে আমাদের আগে থেকে মগজে রক্ষিত সমস্ত ধারনা মুছে ফেলতে হবে। আর সমস্ত মন মগজকে নিরপেক্ষ করে বুঝার চেষ্টা করলে অবশ্যই তা আমাদের রিষয়টি বুঝে আসবে ইন্শা-আল্লাহ। আমরা যে বিষয়টি সম্পর্কে আলোকপাত করতে চাই সে পর্বে যাওয়ার পূর্বে বিষয়টির সাথে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে ধারণা লাভ করা একান্ত প্রয়োজন। আর সেই বিষয়টির নাম হচ্ছে ঈমান বা বিশ্বাস।</p>
<p style="text-align: justify;">ঈমান কি?</p>
<p style="text-align: justify;">ঈমানের সরল অর্থ হলো, কারো উপরে বিশ্বাস আনা বা নির্ভর করা এবং নির্ভরতার কারণে তার কথা ও কাজকে সত্য বলে স¦ীকার করা। মানুষ যখন কারো উপরে বিশ্বাস স্থাপন করে বা নির্ভর করে তখন তাকে সত্যবাদী হিসেবে তাঁর আদেশ নির্দেশ মাথা পেতে নেয়। এই আস্থা ও বিশ্বাসই হলো ঈমানের প্রাণশক্তি। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাধ্যমে যে সমস্ত কথাগুলি এসেছে তার সবগুলোকে সত্য বলে স¦ীকার করে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করাই মুমিন বা ঈমানদার বা বিশ্বাসী হওয়ার জন্য জরুরী। তাই ঈমানদার হিসেবে পূর্ণতা অর্জনের জন্য সকল মানব জাতিকে লক্ষ্যকরেই দয়াময় প্রতিপালক বলছেনঃ “হে মু’মিনগন! তোমরা পূর্নরূপে ইসলামে প্রবিষ্ট হও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’’ (সুরাঃ বাকারাঃ ২০৮)।</p>
<p style="text-align: justify;">যেহেতু ইসলাম একটি সার্থক, সফল ও পূর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম, সেহেতু ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় পূর্নাঙ্গরূপে প্রবেশ করতে হবে। আর তাই ইসলামের কতকগুলি মৌলিক বিষয়ের উপর পরিপূর্ণরুপে ঈমান আনা প্রত্যেক মুমিনের উপর অপরিহার্য কর্তব্য। অর্থাৎ মহান আল্লাহর পক্ষ প্রক্ষিপ্ত নাবি কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আনিত সকল বিষয় যা স্পষ্টভাবে প্রমানিত। বিস্তারিত হউক বা সংক্ষিপ্ত, রাসূলে পাক হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি আস্থাশীল হয়ে মনে প্রাণে তার অর্পিত বিষয় সমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করাকেই শরিয়তের পরিভাষায় ঈমান বলা হয় ।</p>
<p style="text-align: justify;">আর আমাদের প্রিয় রাসুল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনিত যেসকল মৌলিক বিষয়ের প্রতি প্রত্যেক মুমিনকে ঈমান আনতে হবে, তা একটি পবিত্র ও বিখ্যাত হাদীসের মাধ্যমে উপস্থাপন করছি।</p>
<p style="text-align: justify;">“হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমরা একদিন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে উপস্থিত ছিলাম। হঠাৎ আমাদের নিকট এমন এক ব্যক্তি আর্বিভূত হলেন, যাঁর পরিচ্ছদ ছিল সাদা ধবধবে আর মাথার চুলগুলো ছিল কালো মিচ মিচে। সফরের কোন চিহ্নই তার শরীরে ছিল না, অথচ আমাদের মধ্যে কেউ তাঁকে চিনতেও পারলেন না, যিনি ছিলেন প্রকৃত পক্ষে জিবরীল (আঃ)। তিনি মানুষরূপ ধারণ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলে দিন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঈমানের অর্থ হলো এই যে, তুমি আল্লাহ, তাঁর ফিরিশতা, তাঁর কিতাব, তাঁর পয়গ¤¦র ও পরকালের উপর দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস স্থাপন করবে। আর তকদীরের (লিখিত) ভাল মন্দের উপরও দৃঢ় বিশ্বাস আনবে।&#8230;&#8230;&#8230;.’’ (মুসলিম)।</p>
<p style="text-align: justify;">আমরা বিশ্ব বিখ্যাত হাদীসে জিবরীল (আঃ) এর মাধ্যমে ঈমানের মৌলিক একটা ধরণা লাভ করলাম। ঈমানের এই মৌলিক বিষয় সমূহের মধ্য থেকেই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন বিষয়ের আলোচনাই আমরা করবো। আর তা হচ্ছে তকদীর এর প্রতি ঈমান বা ভাগ্য লিপির প্রতি বিশ্বাস। দয়াময় প্রতিপালক তার এই জঠিল বিষয়টিকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের তাওফীক দিন এবং তা বুঝে সেই অনুযায়ী যথাযথভাবে আমাদের সকলকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন ।</p>
<p style="text-align: justify;">আসুন তাহলে প্রথমেই আমরা জেনে নেই তকদীর কি? এটির সৃষ্টিকর্তা কে? এবং কখন এবং কিভাবে তার আর্বিভাব ঘটে? এবং তা প্রতিফলিত হয় কিভাবে? আর এ ব্যাপারেই মহান আল্লাহ বলছেন ঃ “তুমি বলে দাও ! আল্লাহ আমাদের জন্যে যা নির্ধারন করে (লিখে) দিয়েছেন তা ছাড়া অন্য কোন বিপদ আমাদের উপর আসতে পারে না, তিনিই কর্ম বিধায়ক আর সকল মুমিনেরই কর্তব্য হলো যে তারা যেন নিজেদের যাবতীয় কাজে আল্লাহর উপর নির্ভর করে (তাওবাহ-৫১)।</p>
<p style="text-align: justify;"> হাদীসে তাকদীর লিখা সম্পর্কেই এভাবে এসেছে ঃ “আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাঃ) হতে বর্নিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলেত শুনেছি, আল্লাহ তায়ালা আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে সমস্ত মাখলুকাতের তকদীর লিখে রেখেছেন।’’ (মুসলিম ও তিরমিযি)।</p>
<p style="text-align: justify;"> অন্য আরো একটি হাদীসের বর্ননাঃ “আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বর্ননা করেন, সত্যবাদী ও সত্যের বাহক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান মাতৃগর্ভে চল্লিশদিন পর্যন্ত জমাট বাঁধতে থাকে। তারপর তা অনুরূপভাবে ভ্রুণ (চল্লিশদিনে) জমাটবদ্ধ হয়ে রক্ত পিন্ডে রূপ নেয়। পূনরায় রক্তপিন্ড তদ্রুপ চল্লিশদিনে গোশতের টুকরায় পরিণত হয়। অতঃপর আল্লাহ চারটি কথার নির্দেশসহ তার কাছে একজন ফেরেশতা পাঠান। সে তার আমল, মৃত্যু, রিযিক এবং পাপিষ্ট হবে না-কি নেক্কার হবে, এসব লিখে দেয়।  এরপর তার মধ্যে ’’রূহ’’ ফুকে দেয়া হয়। জন্মের পর একব্যক্তি একজন জান্নামীর ন্যয় ক্রিয়া কর্ম করতে থাকে। এমন কি তার ও জাহান্নামের মধ্যে মাত্র এক হাতের ব্যবধান থাকে, এমনি সময় তাঁর (নিয়তি’র) লিখন এগিয়ে আসে। তখন সে জান্নাতবাসীদের অনুরূপ আমল (কাজকর্ম) করে যায় এবং ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে। আর এক ব্যক্তি (শুরুতে) জান্নাতবাসীর অনুরূপ আলম করতে থাকে, এমন কি তাঁর (নিয়তি বা ভাগ্য) লিখন এগিয়ে আসে, তখন সে জাহান্নামবাসীদের মত আমল করতে থাকে, ফলে সে জাহান্নামী হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করে।’’ (সহীহই আল বুখারী)।</p>
<p style="text-align: justify;">এইরূপ অপর আর একটি হাদীসের বর্ননা ঃ “হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্নিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ মাতৃগর্ভে একজন ফেরেশতা মোতায়েন করে রেখেছেন,(যখন উপযুক্ত সময় হয় তখন) ফেরেশতাটি বলেনঃ ইয়া রব! এখনোতো ভ্রুণ মাত্র। হে পরওয়ারদিগার! এখন জমাটবদ্ধ রক্ত পিন্ডে পরিণত হয়েছে। হে প্রতিপালক! এবার গোশতের টুকরায় পরিণত হয়েছে। তাঁরপর আল্লাহ যখন তাকে পয়দা করতে চাইবেন, তখন ফেরেশতাটি বলবেঃ হে আমার রব! (সন্তানটি) ছেলে হবে, না মেয়ে ? হে আমার রব ! পাপী হবে, না নেক্কার? তাঁর রিযিক কি পরিমাণ হবে? তার আয় কত হবে? অতএব এভাবে (সবকিছু) তার মাতৃগর্ভেই লিপিবদ্ধ করে দেয়া হয়। (সহীহই আল বুখারী)। (চলবে&#8230;)</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://alhudaonline.com/?feed=rss2&#038;p=1086</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>হাদীসের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ</title>
		<link>http://alhudaonline.com/?p=1082</link>
		<comments>http://alhudaonline.com/?p=1082#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 05 May 2013 14:35:48 +0000</pubDate>
		<dc:creator>mamunipc</dc:creator>
				<category><![CDATA[হাদীসে রাসূল]]></category>
		<category><![CDATA[হাদীসের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://alhudaonline.com/?p=1082</guid>
		<description><![CDATA[হাদীস :  রাসুল (স:) এর নবুয়াতী জীবনের সকল কথা,কাজ এবং অনুমোদনকে হাদীস বলে। মূল বক্তব্য হিসাবে হাদীস তিন প্রকার ১) কাওলী হাদীস : রাসুল(স:) এর পবিত্র মুখের বানীই কাওলী হাদীস। ২) ফিলী হাদীস: যে কাজ রাসূল (স:) স্বয়ং করেছেন এবং সাহাবীগণ তা বর্ণনা করেছেন তাই ফিলী হাদীস। ৩) তাকরীরী হাদীস : সাহাবীদের যে সব কথাও [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p>হাদীস :  রাসুল (স:) এর নবুয়াতী জীবনের সকল কথা,কাজ এবং অনুমোদনকে হাদীস বলে। মূল বক্তব্য হিসাবে হাদীস তিন প্রকার ১) কাওলী হাদীস : রাসুল(স:) এর পবিত্র মুখের বানীই কাওলী হাদীস। ২) ফিলী হাদীস: যে কাজ রাসূল (স:) স্বয়ং করেছেন এবং সাহাবীগণ তা বর্ণনা করেছেন তাই ফিলী হাদীস। ৩) তাকরীরী হাদীস : সাহাবীদের যে সব কথাও কাজের প্রতি রাসূল (স:) সমর্থন প্রদান করেছেন তাহাই তাকরীরী হাদীস।</p>
<p>রাবীদের সংখ্যা হিসেবে হাদীস তিন প্রকার:</p>
<p>১। খবরে মুতাওয়াতির: যে হাদীস এত অধিক সংখ্যক রাবী বর্ণনা করেছেন যাদেও মিথ্যার উপর একমত হওয়া অসম্ভব।</p>
<p>২। খবরে মাশহুর: প্রত্যেক যুগে অন্তত: তিনজন রাবী রেওয়ায়েত করেছেন,তাকে খবরে মাশহুর বলে,  তাকে মুস্তাফিজ ও বলে।</p>
<p>৩। খবরে ওয়াহেদ বা খবরে আহাদ: হাদীস  গরীব   আজিজ  এবং খবরে মাশহুর এ তিন প্রকারের হাদীদকে একত্রে খবরে আহাদ বলে, প্রত্যেকটিকে পৃথক পৃথকভাবে খবরে ওয়াহিদ বলে।</p>
<p>আযীয হাদীস: যে হাদীস প্রত্যেক যুগে অন্তত: দুজন রাবী রেওয়ায়েত করেছেন, তাকে আযীয হাদীস বলে।</p>
<p>গরীব হাদীস: যে হাদীস কোন যুগে মাত্র একজন রাবী বর্ণনা করেছেন। তাকে গরীব হাদীস বলে।</p>
<p>রাবীদের সিলসিলা হিসেবে হাদীস তিন প্রকার</p>
<p>১। মারফু হাদীস: যে হাদীসের সনদ রাসুল(স:) পর্যন্ত পৌছাইয়াছে তাকে মারফু হাদীস বলে।</p>
<p>২। মাওকুফ হাদীস : যে হাদীসের সনদ সাহাবী পর্যন্ত পৌছাইয়াছে তাকে মাওকুফ হাদীস বলে।</p>
<p>৩। মাকতু হাদীস: যে হাদীসের সনদ তাবেয়ী পর্যন্ত পৌছাইয়াছে তাকে মাকতু হাদীস বলে।</p>
<p>রাবী বাদ পড়া হিসাবে হাদীস দুই প্রকার।</p>
<p>১। মুত্তাছিল হাদীস: যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা সর্বস্তরে ঠিক রয়েছে কোথা ও কোন রাবী বাদ পড়ে না তাকে মুক্তাছিল হাদীস বলে।</p>
<p>২। মুনকাতে হাদীস: যে হাদীসের সনদের মধ্যে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে তাকে মুনকাতে হাদীস বলে।</p>
<p>মুনকাতে হাদীস তিন প্রকার:</p>
<p>১। মুরসাল  হাদীস: যে  হাদীসে রাবীর নাম বাদ পড়া শেষের দিকে অথাৎ সাহাবীর নামই বাদ পড়েছে তাকে মুরসাল হাদীস বলে।</p>
<p>২। মুয়াল্লাক হাদীস:  যে হাদীসের সনদের প্রথম দিকে রাবীর নাম বাদ পড়েছে অথার্ৎ সাহাবীর পর তাবেয়ী তাবে তাবেয়ীর নাম বাদ পড়েছে তাকে মুয়াল্লাক হাদীস বলে।</p>
<p>৩। মুদাল হাদীস: যে হাদীসে দুই বা ততোধীক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বিলুপ্ত হয়  তাকে মুদাল হাদীস বলে।</p>
<p>বিশ্বস্ততা হিসেবে হাদীস তিন প্রকার</p>
<p>১। সহীহ হাদীস: যে হাদীসের বর্ণনাকারীদের বর্ণনার ধারাবাহিকতা রয়েছে,  সনদের প্রতিটি স্তরে বর্ণনাকারীর নাম, বর্ণানাকারীর বিশ্বস্ততা, আস্তাভাজন, স্বরণশক্তি অত্যন্ত প্রখর কোনস্তরে তাদের সংখ্যা একজন  হয়নি তাকে সহীহ হাদীস বলে।</p>
<p>২। হাসান হাদীস: সহীহ সবগুনই রয়েছে, তবে তাদের স্বরণ শক্তির যদি কিছুটা দুর্বলতা প্রমাণিত হয় তাকে হাসান হাদীস বলে।</p>
<p>৩। যায়ীফ হাদীস: হাসান, সহীহ হাদীসের গুন সমুহ যে হাদীসে পাওয়া না যায় তাকে যায়ীফ হাদীস বলে।</p>
<p>হাদীসে কুদসী:</p>
<p>যে হাদীসের মুল বক্তব্য আল্লাহ সরাসরি রাসূল(স:) কে ইলহাম বা স্বপ্ন যোগে জানিয়ে দিয়েছেন, রাসূল(স:) নিজ ভাষায় তা বর্ণনা করেছেন তাকে হাদীসে কুদসী বলে।</p>
<p>মুদাল্লাছ হাদীস</p>
<p>যে হাদীসের সনদের দোষ ক্রটি গোপন করা হয় তাকে মুদাল্লাছ হাদীস বলে।</p>
<p>সুনান: হাদীসের ঐ কিতাবকে সুনান বলা হয় যা ফিক্হ এর তারতীব অনুয়াযী সাজানো হয়েছে।</p>
<p>সুনানে আরবায়া: আবুদাউদ শরীফ+ নাসায়ী শরীফ+তিরমীযী শরীফ+ ইবনে মাজায় শরীফ এই চার হাদীস গ্রন্থকে এক সাথে সুনানে আরবায়া বলা হয়।</p>
<p>মুসনাদ: হাদীসের ঐ কিতাবকে বলা হয়  যা সাহাবায়ে কিরামের তারতীব অনুয়াযী লিখা হয়েছে।</p>
<p>সহীহাইন: বুখারী শরীফ ্ও মুসলীম শরীফকে এক সাথে সহীহাইন বলা হয়।</p>
<p>মুত্তাফাকুন আলাইহি: ইমাম বুখারী (র) ইমাম মুসলিম (র:)  উভয়ে একই সাহাবী হতে যে হাদীস স্ব-স্ব প্রান্তে সংকল করেছেন তাকে মুত্তাফাকুন আল্লাইহি বলে।</p>
<p>জামে:  যে গ্রন্থে হাদীস সমূহকে বিষয় বস্তু অনুসারে সাজানো হয়েছে এবং যার মধ্যে আকাইদ ছিয়ার তাফসির আহকাম, আদব, ফিতান, রিকাক ও মানাকিব এ আটটি অধ্যায় রয়েছে তাকে জামে বলা হয় যেমন জামে তিরমিযী</p>
<p>সনদ: হাদীস বর্ণনা কারীদের ধারাবাহিকতাকে সনদ বলে,</p>
<p>মতন: হাদীসের মূল শব্দ সমূহকে মতন বলে।</p>
<p>রেওয়ায়েত: হাদীস বর্ণনা করাকে রেওয়ায়েত বলে।</p>
<p>দেরায়েত: হাদীসের মতন বা মূল বিষয়ে আভ্যান্তরীন সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে যুক্তির কষ্টিপাথরে যে সমালোচনা করা হয় তাকে দেরায়েত বলে।</p>
<p>রিজাল: হাদীস বর্ণনাকারীর সমষ্টিকে রিজাল বলে।</p>
<p>শায়খাইন:মুহাদ্দিসদের পরিভাষায় ইমান বুখারী(র:)  ও মুসলিম (র:) কে শায়খাইন বলে।</p>
<p>হাফিজ: যে ব্যাক্তি সনদও মতনের সকল বৃত্তান্ত সহ এক লক্ষ হাদীস মুখস্ত জানেন তাকে  হাফিজ বলে।</p>
<p>হুজ্জাত: যে ব্যাক্তি সদন ও মতনের সকল বৃন্তান্ত সহ  তিন লক্ষ্য হাদীস মুখস্ত জানেন তাকে হুজ্জাত বলে।</p>
<p>হাকিম: যে ব্যাক্তি সনদ ও মতনের সকল বৃত্তান্ত সহ সকল হাদীস মুখস্থ করেছেন তাকে হাকিম বলে।</p>
<p>সিহাহ্ সিত্তা: সিহাহ্ অর্থ বিশুদ্ব, সিত্তাহ অর্থ ছয়। সিহা সিত্তা এর আভিধানিক অর্থ হল ছয়টি বিশুদ্ব ইসলামী পরিভাষায় হাদীস শাসের ছয়টি নির্ভূল ও বিশুদ্ব হাদীস গ্রন্থকে এক কথায় সিহাহ্ সিত্তা বলা হয়।</p>
<p>সিহাহ্ সিত্তা হাদীস গ্রন্থ গুলো এবং সংকলকদের নাম:</p>
<p>১। সহীহ বুখারী- ইমাম বুখারী (র:)- হাদীস সংখ্যা ৭৩৯৭</p>
<p>২। সহীহ মুসলিম -  ইমাম মুসলিম (র:) হাদীস সংখ্যা- ৪০০০</p>
<p>৩। জামি তিরমিযী- ইমাম তিরমিযী (র:) হাদীস সংখ্যা ৩৮১২</p>
<p>৪। সুনানে আবুদাউদ (র:) ইমাম আবুদাউদ (র:) হাদীস সংখ্যা ৪৮০০</p>
<p>৫। সুনানে নাসায়ী &#8211; ইমাম নাসাই (র:)  হাদীস সংখ্যা ৪৪৮২</p>
<p>৬। সুনানে ইবনে মাজাহ ইমাম ইবনে মাজাহ (র:) হাদীস- ৪৩৩৮</p>
<p>হাদীসের শ্রেণী বিভাগ:</p>
<p>মুল বক্তব্য হিসেবে তিন প্রকার:</p>
<p>১। কাওলী ২। ফেলী ৩। তাকরীর</p>
<p>রাবীদের সংখ্যা হিসেবে  তিন প্রকার:</p>
<p>১। খবরে মুতাওয়াতের ২। খবরে মাশহুর ৩। খবরে ওয়াহেদ</p>
<p>রাবীদের সিলসিলা হিসাবে তিন প্রকার :</p>
<p>১। মারফু ২। মাওকুফ ৩। মাকতু</p>
<p>রাবীদের পড়া হিসেবে দুই প্রকার:</p>
<p>১। মুক্তাসিল ২। মুনকাতে</p>
<p>বিশ্বস্ততা হিসেবে তিন প্রকার:</p>
<p>১। ছহীহ্ ২। হাসান। ৩। জয়ীফ</p>
<p>বেশী হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীগণ:</p>
<p>১। হযরত আবু হুরায়রা (র:)হাদীস সংখ্যা ৫৩৭৪টি মৃত্যু৫৭হিজরী বয়স: ৭৮বছর</p>
<p>২। হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (র:) হাদীস সংখ্যা ২২১০টি মৃত্যু ৫৮ হিজরী বয়স: ৬৭বছর</p>
<p>৩। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস(র:) হাদীস সংখ্যা ১৬৬০ মৃত্যু ৫৮ হিজরী বয়স: ৭১বছর</p>
<p>৪। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর(র:)  হাদীস সংখ্যা ১৬৩০ মৃত্যু ৭০ হিজরী বয়স: ৮৪বছর</p>
<p>৫। হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (র:)   হাদীস সংখ্যা ১৫৪০ মৃত্যু ৭৪ হিজরী বয়স: ৯৪বছর</p>
<p>৬। হযরত আনাস ইবনে মালেক (র:) হাদীস সংখ্যা ১২৮৬ মৃত্যু ৯৩ হিজরী বয়স: ১০৩বছর</p>
<p>৭। হযরত আবু সাঈদ খুদরী হাদীস সংখ্যা ১১৭০ মৃত্যু ৪৬ হিজরী বয়স: ৮৪বছর</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>৮। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (র:)  হাদীস সংখ্যা ৮৪৮ মৃত্যু ৩২ হিজরী বয়স:-</p>
<p>৯। হযরত আমর ইবনুল আস(র:)  হাদীস সংখ্যা ৭০০ মৃত্যু ৬৩ হিজরী বয়স:-</p>
<p>প্রসংগ কথা</p>
<p>বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সকল প্রশংসা কেবল মহান আল্লাহ রাবুল আলামিনয়ের, অসংখ্য দরুদ বিশ্ব মানবতার মহান শিক্ষক ও নেতা রাসুল পাক (স:)  ও তার বংশ ধরদের প্রতি এবং হাজার ও সালাম সে সব বীর মুজাহিদদের প্রতি, যারা যুগে যুগে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করতে নিজেদের জীবনকে বিলিয়ে দিয়েছেন।</p>
<p>আমার প্রাণ প্রিয় জ্ঞান পিপাসু মুমিন মুক্তাকী ভাই এবং বুনেরা আমি হাদীস শাসরের কতিপয় পরিভাষা আল্লাহর মেহের বানীতে এই  জন্য লিখার প্রয়োজন মনে করলাম আমাদের অনেক বাংলাদেশী ভাই এবং বোনেরা কুয়েতে বসবাস করছি এদের ভিতর যারা আলেম তারা মাশাআল্লাহ এ বিষয়ে জ্ঞান রাখেন। কিন্তু যারা আলেম না কিন্তু কুরআন হাদীস পড়ে জ্ঞান অর্জন করতে চান বিশেষ করে সেই ভাইয়েরা আশা করি অনেক উপকৃত হবেন।</p>
<p>আল্লাহ পাকের দরবারে এই দোয়া কামনা করে শেষ করছি হে আমাদের মহান রব্ব তোমার দ্বীনের পথের আমদের সকল প্রচেষ্টা কবুল করুন আমিন।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://alhudaonline.com/?feed=rss2&#038;p=1082</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>উম্মুল মু‘মেনীন হযরত যয়নব বিনতে জাহাশ(রাঃ)</title>
		<link>http://alhudaonline.com/?p=1079</link>
		<comments>http://alhudaonline.com/?p=1079#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 05 May 2013 14:11:37 +0000</pubDate>
		<dc:creator>mamunipc</dc:creator>
				<category><![CDATA[নারী]]></category>
		<category><![CDATA[মহিলা সাহাবী]]></category>
		<category><![CDATA[উম্মুল মু‘মেনীন হযরত যয়নব বিনতে জাহাশ(রাঃ)]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://alhudaonline.com/?p=1079</guid>
		<description><![CDATA[এখন আর কোন বাধা ছিল না। তাই তিনি হযরত যায়েদকে বললেন, তুমি যাও এবং যয়নবকে আমার বিয়ের পয়গাম পৌছাও। হযরত যায়েদ হযরত যয়নবের গৃহে গিয়ে বললেন যে, রাসুলুল্লাহ তোমাকে বিয়ে করতে চান। তিনি বললেন, যহেতু আল্লাহর নিদের্শ, তাই আমার কিছু বলার নেই। এ জবাবের পর তিনি মসজিদের পথে রওয়ানা হন। এ সময় আল্লাহ্ তা’আলা নিম্মোক্ত [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;">এখন আর কোন বাধা ছিল না। তাই তিনি হযরত যায়েদকে বললেন, তুমি যাও এবং যয়নবকে আমার বিয়ের পয়গাম পৌছাও। হযরত যায়েদ হযরত যয়নবের গৃহে গিয়ে বললেন যে, রাসুলুল্লাহ তোমাকে বিয়ে করতে চান। তিনি বললেন, যহেতু আল্লাহর নিদের্শ, তাই আমার কিছু বলার নেই। এ জবাবের পর তিনি মসজিদের পথে রওয়ানা হন। এ সময় আল্লাহ্ তা’আলা নিম্মোক্ত আয়াত নাযিল করেন ঃ</p>
<p style="text-align: justify;">অতঃপর যায়েদ যখন দার কাছ থেকে হিস্যা পূর্ণ করে তখন আমি তাকে তোমার নিকট বিয়ে দিলাম, যাতে হিস্যা পুরা করার পর মুখ ডাকা পুত্রদের স্ত্রীদের ব্যপারে মোমেনদের উপর কোন দোষারোপ না চলে। আল্লাহর ইচ্ছা তো পুরণ হবেই। (সূরা আহ্যাব: ৩৮)</p>
<p style="text-align: justify;">যখন খোদার হুমুম নাযিল হয়েছে। তাই বিবাহ সম্পন্ন হতে আর কোন বাধা ছিল না। নবীজী হযরত যয়নবের অনুমতির অপেক্ষা না করেই তার কাছে যাতায়াত শুরু করেন। ওলীমার গোশ্ত-রুটীর ব্যবস্থা করা হয়। মুসলমানরা তৃপ্ত হয়ে তা খান। ওলীমার পরই পর্দার আয়াত নাযিল হয়। এর কারন দাঁড়ায় এই যে, খাওয়ার পর লোকেরা বসে কথা-বার্তায় মশগুল ছিল। নবীজী তখন হযরত যয়নবের গৃহে অবস্থান করেন। এদের কারণে তাকে বারবার আসতে যেতে হয়, কিন্তু ভদ্রতার খাতিরে মুখে কিছু বলছিলেন না। তখন এ আয়াত নাযিল হয় ঃ</p>
<p style="text-align: justify;">হে ঈমানদারগণ! তোমাদেরকে কোন খানার জন্য ডাকা ছাড়া নবীর ঘরে প্রবেশ করবে না। (আর ডাকা হলেও) বরতনের দিকে তাকিয়ে থাকবে না। এজন্য তোমাদেরকে ডাকা হলে তখন প্রবেশ করবে আর খাওয়া শেষ হলে চলে যাবে, কথায় মত্ত হয়ে থাকবে না। কারণ, তোমাদের এ কর্ম নবীকে কষ্ট দেয় আর তিনি তোমাদেরকে লজ্জা করেন (তাই কিছু বলেন না), আর আল্লাহ্ সত্য বলতে লজ্জা করেন না। আর তোমরা তার কাছে কোন কিছু চাইলে তা চাইবে পর্দার আড়াল থেকে। তোমাদের এমন কাজ তোমাদের নিজেদের এবং স্ত্রীদের অন্তরের জন্য অতি পবিত্র। রাসুলকে কষ্ট দেয়া তোমাদের জন্য সাজেনা আর অতঃপর তার স্ত্রীদেরকে কখনো বিয়ে করা যাবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্র নিকট এটা বিরাট গুনাহের কাজ। (সুরা আহযাব:৫৩)</p>
<p style="text-align: justify;">অতঃপর নবীজী দরজায় পর্দা ঝুলিয়ে দেন। লোকদের ভিতরে  যাওয়া নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনা হিজরী ৫ম সালের যিলকদ মাসের।</p>
<p style="text-align: justify;">ইবনে আসীর লিখেছেন যে, অন্যান্য স্ত্রীর তুলনায় হযরত যয়নব তার বিয়ের জন্য গর্ব করতেন এই বলে যে, আল্লাহ্ তা’আলা আসমানে আমার আকদ সম্পন্ন করেছেন আর আমার বিয়েতেই নবীজী গোশ্ত-রুটি দ্বারা ওলীমার ব্যবস্থা করেছেন।</p>
<p style="text-align: justify;">ইবনে সা’আদ এ ওলীমার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন,</p>
<p style="text-align: justify;">নবীজী তার কোন স্ত্রীর ওলীমা হযরত যয়নবের মতো এতো শান-শওকতের সাথে করেননি । বকরীর গোশ্ত দিয়ে তিনি এ ওলীমা করেন।</p>
<p style="text-align: justify;">মুহাম্মাদ ইবনে উমর বর্ণনা করেন যে, একদিন হযরত যয়নব নবীজীকে বললেন, ইয়া  রাসুলুল্লাহ! আমি আপনার অন্য স্ত্রীদের মতো নই। তাদের মধ্যে একজনও এমন নেই,  যার বিয়ে পিতা-ভাই বা বংশের অন্য কারো অভিভাবকত্বে সম্পন্ন হয়নি। একমাত্র আমিই ব্যতিক্রম। আল্লাহ্ তা’আলা আমাকে আসমান থেকে আপনার স্ত্রী করেছেন।</p>
<p style="text-align: justify;">উপরের বর্ণনায় হযরত যয়নবের বিয়ের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। এতে অন্য কেউ তার শরীক নেই। এ কারনে হযরত আয়েশা হযরত যয়নব সর্ম্পকে নলতেন ঃ</p>
<p style="text-align: justify;">আর সত্য কথা এই যে, এ দাবি করার তার  অধিকারও ছিল। কারণ তার এ বিয়ে দ্বারা জাহেলী যুগের একটি প্রথার বিলোপ ঘটেছে। যেমন আগে ধারনা করা হতো যে, পালক পুত্রও আসল পুত্রের মতই। আল্লাহ তা’আলা তার শেষ নবীর মাধ্যমে এ ধারণার বাস্তব সংস্কার সাধন করেছেন। আযাদ আর গোলামের পার্থক্য তিরোহিত হয়েছে। আর হযরত যায়েদকে বনু হাশেম বংশের মধ্যে সাম্যের প্রতীক করা হয়েছে। পর্দাহীনতার ঘৃণ্য প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে এবং মুসলমানদেরকে পর্দার সাধারণ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify;">চরিত্র-মাধুর্য</p>
<p style="text-align: justify;">হযরত যয়নবের মধ্যে যেসব বৈশিষ্ট পাওয়া যায়, খুব কম স্ত্রীই এ ব্যাপারে তাঁর শরীক ছিলেন। এ কারনে হযরত আয়েশার সাথে সব সময় প্রতিযোগিতামুলক দ্বন্দ্ব চলতো। মানব প্রকৃতির দাবি অনুযায়ী অনেকাংশে ঈর্ষা এবং প্রতিদ্বন্দ্বীতার সম্পর্কও ছিল। কিন্তু ইফ্ক (অপবাদের) ঘটনায় হযরত আয়েশা সম্পর্কে তার অভিমত চাওয়া হলে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আমি তার মধ্যে ভালো ছাড়া অন্য কিছু দেখি না। চিন্তা করলে দেখা যায়, নারীর মতো দুর্বল প্রকৃতির লোকের জন্য এটা ছিল একটা নাযুক সময়, বলা চলে এক দুর্লভ মুহূর্ত। এ ছাড়াও হযরত যয়নবের এক বোন ’হামনা’ ও এ ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল। কিন্তু আল্লাহ্ তা’আলার অভিপ্রায় ছিল হযরত আয়েশার কলুষমুক্তার সাথে সাথে হযরত যয়নবের নিরপেক্ষ সত্যবাদিতা প্রকাশ করে দেয়া। হাফেজ ইবনে হাজার তার বিশ্ববিশ্রুত গ্রন্থ আল-এছাবা’য় লিখেন ঃ</p>
<p style="text-align: justify;">وقد وصفت عائشة زينب بالوصف الجميل فى قصة الأفك</p>
<p style="text-align: justify;">-ইফকের ঘটনায় হযরত যয়নব হযরত আয়েশার ভূয়শী প্রশংসা করেন।</p>
<p style="text-align: justify;">তিনি ছিলেন অত্যন্ত উদার, দরায হস্ত, দানশীলা, খোদার উপর নির্ভরশীলা এবং অল্পে তুষ্ট। এতিম, মিসকীন এর অভিভাবক এবং ফকীরদের সহায়।</p>
<p style="text-align: justify;">ইবনে সা’আদ বলেন,</p>
<p style="text-align: justify;">যয়নব ইবনেতে জাহাশ দীনার-দিরহাম কিছুই রেখে যাননি, যা কিছু সম্ভব, ছদকা করে দেন।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://alhudaonline.com/?feed=rss2&#038;p=1079</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়্যাতের মাদানী জীবন ও পর্যালোচনা</title>
		<link>http://alhudaonline.com/?p=1076</link>
		<comments>http://alhudaonline.com/?p=1076#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 05 May 2013 14:02:34 +0000</pubDate>
		<dc:creator>mamunipc</dc:creator>
				<category><![CDATA[Uncategorized]]></category>
		<category><![CDATA[মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়্যাতের মাদানী জীবন ও পর্যালোচনা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://alhudaonline.com/?p=1076</guid>
		<description><![CDATA[মাওলানা আব্দুর রব সন্ধির ফলাফল সন্ধি-চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর রাসূল সা: সাহাবীদেরকে কুরবানী করে মাথার চুল কামিয়ে ফেলতে আদেশ দিলেন। কিন্তু অস্থিরতা,দু:খবেদনার কারণে কেউ নড়া-চড়া করলোনা। পরপর তিনবার নির্দেশ দিলেন তাতেও কাজ হলোনা। এ থেকে সহজেই বুঝা যায় যে, তারা কতটা মানসিক কষ্টে ছিলেন। মানবীয় তৎপরতার ক্ষেত্রে কত বিচিত্র রকমের পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে,তা এ [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;">মাওলানা আব্দুর রব</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>সন্ধির ফলাফল</strong></p>
<p style="text-align: justify;">সন্ধি-চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর রাসূল সা: সাহাবীদেরকে কুরবানী করে মাথার চুল কামিয়ে ফেলতে আদেশ দিলেন। কিন্তু অস্থিরতা,দু:খবেদনার কারণে কেউ নড়া-চড়া করলোনা। পরপর তিনবার নির্দেশ দিলেন তাতেও কাজ হলোনা। এ থেকে সহজেই বুঝা যায় যে, তারা কতটা মানসিক কষ্টে ছিলেন। মানবীয় তৎপরতার ক্ষেত্রে কত বিচিত্র রকমের পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে,তা এ ঘটনা থেকে অনুমান করা যায়। রাসূল সা: মর্মাহত হয়ে নিজ তাবুতে ফিরে উম্মুল মু‘মিনিন হযরত উম্মে সালামা রা:র কাছে ঘটনা খুলে বললেন। উম্মে সালামা রা: তাঁকে সান্ত¦না দিয়ে বললেন: চুক্তির শর্ত পালনে তারা মর্মাহত। আপনি বাইরে গিয়ে নিজের কুরবানী করে মাথার চুল মুন্ডন করুন। দেখবেন তাদের মনে যতই ব্যাথা থাকুক তারা আপনার আনুগত্য না করে পারবেনা। উম্মে সালামা রা:এর পরামর্শে রাসূল সা: তাই করলেন। সাথে সাথে সমস্ত সাহাবীগণ তাঁকে অনুসরন করলেন এবং আনুগত্যের বাস্তব উদাহরণ পেশ করলেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর হুদায়বিয়ায় তিন দিন অবস্থানের পর তিনি মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। মক্কা ও মদীনার মাঝখানে আসতেই এই সন্ধি চুক্তিকে স্পষ্ট বিজয় অভিহিত করে আল্লাহ তা‘য়ালা সূরা আল্ ফাতাহ নাযিল করেন। “নিশ্চয়ই ( হে রাসূল) আমি তোমাকে দান করেছি সুস্পষ্ট বিজয়”। তখনকার সময় এ বিজয় অস্পষ্ট মনে হলেও পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ বলে দেয় যে, সত্যিকারেই হুদায়বিয়ার সন্ধি ছিলো স্পষ্ট বিজয়। ইসলামী আন্দোলনে দীর্ঘ সংগ্রামী পথ পরিক্রমায় মুহাম্মাদ সা:কে কোরাইশরা তেমন মূল্যায়নই করেনী। এই সন্ধির মাধ্যমে তারা প্রথম বারের মতো মুহাম্মাদ সা:কে একজন অপরাজেয় শক্তিরূপে স্বীকার করে নিলো। এর ফলে কোরেশদের মনে ক্ষতের সৃষ্টি হলো এবং তাদের মধ্যে বিবেধ দেখা দিলো।</p>
<p style="text-align: justify;">এতদিন ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের ধারক-বাহক মুহাম্মাদ সা: ও তাঁর কর্মী বাহিনীর ব্যাপারে জনগণের মধ্যে বিরুপ মনোভাব সৃষ্টির জন্য কোরেশরা নানা ধরনের মিথ্যা প্রপাগান্ডা ও কুৎসা রটনা করে আসছিলো। ফলে মানুষেরা দূর থেকে সে প্রপাগান্ডায় প্রভাবিত হয়ে তাদের চরম শত্রু মনে করতো। এখন এ চুক্তির ফলে জনসাধারন মুসলমানদের সাথে অবাধে মেলা-মেশার সুযোগ পেল। ইসলামী সংগঠনের লোকদের অতি নিকট থেকে দেখার ও জানার সুযোগ আসলো। যাদের বিরুদ্ধে ক্রোধ ও বিদ্বেষ পুঞ্জীভূত  হয়েছিলো, তাদেরকে তারা নৈতিক চরিত্র,আচার-ব্যাবহার ও স্বভাব চরিত্রের দিক দিয়ে আপন লোকদের চেয়েও বেশী উন্নতমানের দেখতে পেল। তারা আরো দেখতে পেল,ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের বিরুদ্ধে তারা এতদিন যুদ্ধংদেহী মনোভাব পোষন করে আসছে,কিন্তু তা সত্ত্বেও কোরেশদের প্রতি মুসলমানদের মনে কোন ঘৃনা বা শত্রুতা নেই। বরং তাদের যা কিছু ঘৃনা তা শুধু তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস ও মানবতা বিবর্জিত আচার-পদ্ধতির বিরুদ্ধে। ইসলামী কর্মীরা যা কিছু বলে তার প্রতিটি কথা সহানুভূতি ও মানব কল্যাণে পরিপূর্ণ। এতো রক্তপাত সত্ত্বেও তারা বিরুদ্ধবাদীদের সাথে সহানুভূতি ও সদাচারণের বেলায় কোন ত্রুটি করেনা। এর ফলে ইসলাম বিদ্ধেষীরা কতখানি ভ্রান্তধারনা ও অমানবিক কার্যকলাপে নিমজ্জিত ছিলো,তা তারা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারলো। তারা আরো অবলোকন করতে পারলো যে, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের আধ্যাত্মিক,মানসিক,নৈতিক,বৈষয়িক ও জ্ঞানগত উন্নতির বিষয়। চুক্তির ফলে অবাধে মেলা-মেশার সুযোগে ইসলামের অন্তর্নিহিত বিষয় যতই জানতে লাগলো ততই জনসাধারণ ইসলামের ছায়াতলে সমবেত হতে লাগলো। সন্ধির মাত্র দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে এতো লোক ইসলাম গ্রহণ করলো যে, ইতিপূর্বে কখনো তা ঘটেনী। এ সময় বিখ্যাত সেনাপতি খালিদ বিন অলীদ ও আমর বিন আস (রা:) ইসলাম গ্রহণ করলে মুসলমানদের শক্তি বৃদ্ধি পেল। ফলে ইসলাম ব্যাপকভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে লাগলো। সন্ধির পূর্বে যেখানে চৌদ্দশত সাহাবী নিয়ে ওমরায় রওয়ানা দিয়েছিলেন-মাত্র দু‘বছর পর মক্কা অভিযানের সময় সে সংখ্যা দশ হাজারের বেশী অতিক্রম করেছিলো। মূলত: ফলাফলে দিক থেকে হুদায়বিয়ার সন্ধি সত্যিকারে একটা মহা বিজয় হিসেবেই পরিগণিত হলো। নানা শংকা ও জটিলতার অবসান করে কোরেশদেরকে সন্ধিতে বাধ্য করা এবং চুক্তির পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেয়ার মাধ্যমে রাসূল সা: এর রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও নেতাসূলভ প্রজ্ঞারই পরিচয় বহন করে। কাজেই হুদায়বিয়ার সন্ধি থেকে মুসলমানরা কিয়ামতের আগ পর্যন্ত শিক্ষা নিতে থাকবে।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://alhudaonline.com/?feed=rss2&#038;p=1076</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>হাদীস পড়ো জীবন গড়ো</title>
		<link>http://alhudaonline.com/?p=1074</link>
		<comments>http://alhudaonline.com/?p=1074#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 05 May 2013 13:58:45 +0000</pubDate>
		<dc:creator>mamunipc</dc:creator>
				<category><![CDATA[Uncategorized]]></category>
		<category><![CDATA[নামায পড়ো রীতিমতো]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://alhudaonline.com/?p=1074</guid>
		<description><![CDATA[কোন মুসলমান নামায ত্যাগ করতে পারেনা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি নামায ত্যাগ করলো, সে কুফরী করলো।” (তিরমিযী) ব্যাখ্যাঃ অন্য হাদীসে প্রিয় নবী বলেছেন, নামায ত্যাগ করলে মুসলমান আর কাফিরের মধ্যে পার্থক্য থাকেনা। সুতরাং মুসলমান কোনো অবস্থাতেই এক ওয়াক্ত নামাযও ত্যাগ করবেনা। হাতে যতো কাজই থাকুক না কেন, যতো অসুবিধাই থাকুক না কেন, [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;">কোন মুসলমান নামায ত্যাগ করতে পারেনা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি নামায ত্যাগ করলো, সে কুফরী করলো।” (তিরমিযী)</p>
<p style="text-align: justify;">ব্যাখ্যাঃ অন্য হাদীসে প্রিয় নবী বলেছেন, নামায ত্যাগ করলে মুসলমান আর কাফিরের মধ্যে পার্থক্য থাকেনা। সুতরাং মুসলমান কোনো অবস্থাতেই এক ওয়াক্ত নামাযও ত্যাগ করবেনা। হাতে যতো কাজই থাকুক না কেন, যতো অসুবিধাই থাকুক না কেন, সময় মতো নামায পড়ে নিতে হবে। কারণ, নামায পড়া আল্লাহর হুকুম।</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>নামায পড়লে ক্ষমা পাবে</strong></p>
<p style="text-align: justify;">আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের সুফল সম্পর্কে বলেছেনঃ “আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি এই নামায গুলো আদায় করার জন্যে সুন্দরভাবে ওযু করে, প্রত্যেক ওয়াক্ত নামায সময়মতো পড়ে, ঠিক ঠিক মতো রুকু সিজদা করে আর আল্লাহর ভয়ে বিনীতভাবে নামায আদায় করে, তাকে ক্ষমা করে দেয়া আল্লাহর দায়িত্ব।” (আবু দাউদ)</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>নামায পড়ো জামাত গড়ো</strong></p>
<p style="text-align: justify;">জামাতে নামায পড়লে সওয়াব বেশী হয়। আমাদের প্রিয় নবী সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “একা একা নামায পড়ার চাইতে জামাতে নামায পড়ার মর্যাদা সাতাশ গুণ বেশী।” (মুসলিম : আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাঃ)</p>
<p style="text-align: justify;">মানে জামাতে নামায পড়া লোকেরা পরকালে তাদের জামাতে নামায পড়ার জন্যে সাতাশ গুণ বেশী পুরস্কার পাবে।</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>জামাত ছাড়লে শয়তান ঘেঁষে</strong></p>
<p style="text-align: justify;">প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামাতের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন :<span style="font-size: 13px; line-height: 19px;"> কোনো গ্রামে বা এলাকায় যদি তিনজন মুসলমানও থাকে, আর তার যদি নামাযের জামাত কায়েম না করে, তবে শয়তান তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করে। সুতরাং জামাতে নামায় আদায় করা তোমাদের জন্যে অবশ্য কর্তব্য। কারণ, পাল ত্যাগ করা ভেড়াকে বাঘে খাইয়া ফেলে। (আবু দাউদ : আবু দারদা রাঃ)</span></p>
<p style="text-align: justify;">ব্যাখ্যাঃ হাদীসের উদাহরণটা খুব চমৎকার। কোনো ভেড়া পাল ত্যাগ করে যদি একা একা বিচ্ছিন্নভাবে চরতে যায়, তখন তাকে যেমন বাঘে খেয়ে ফেলা সহজ, তেমনি জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া লোককে ধোকা দেয়া শয়তানের পক্ষে খুবই সহজ। অর্থাৎ মুসলমান দলবদ্ধ থাকলে তাদের কাছে শয়তান ঘেষতে ভয় পায়।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://alhudaonline.com/?feed=rss2&#038;p=1074</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>কুরআনের আলো</title>
		<link>http://alhudaonline.com/?p=1071</link>
		<comments>http://alhudaonline.com/?p=1071#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 05 May 2013 13:52:35 +0000</pubDate>
		<dc:creator>mamunipc</dc:creator>
				<category><![CDATA[দারসুল কুরআন]]></category>
		<category><![CDATA[featured]]></category>
		<category><![CDATA[কুরআনের আলো]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://alhudaonline.com/?p=1071</guid>
		<description><![CDATA[১৫৯  যারা আমার অবতীর্ণ উজ্জল শিক্ষাবলী ও বিধানসমূহ গোপন করে , অথচ সমগ্র মানবতাকে পথের সন্ধান দেবার জন্য আমি সেগুলো আমার কিতাবে বর্ণনা করে দিয়েছি, নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো , আল্লাহ তাদের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করেন এবং সকল অভিশাপ বর্ষণকারীরাও তাদের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করে১। ১.   ইহুদি আলেমদের বৃহত্তম অপরাধ এই ছিল যে, তারা আল্লাহর কিতাবের [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;"><a href="http://alhudaonline.com/wp-content/uploads/2013/05/تلاوة-القرآن.jpg"><img class="alignright size-medium wp-image-1072" alt="تلاوة القرآن" src="http://alhudaonline.com/wp-content/uploads/2013/05/تلاوة-القرآن-199x300.jpg" width="199" height="300" /></a></p>
<p style="text-align: justify;">১৫৯  যারা আমার অবতীর্ণ উজ্জল শিক্ষাবলী ও বিধানসমূহ গোপন করে , অথচ সমগ্র মানবতাকে পথের সন্ধান দেবার জন্য আমি সেগুলো আমার কিতাবে বর্ণনা করে দিয়েছি, নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো , আল্লাহ তাদের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করেন এবং সকল অভিশাপ বর্ষণকারীরাও তাদের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করে১।</p>
<p style="text-align: justify;">১.   ইহুদি আলেমদের বৃহত্তম অপরাধ এই ছিল যে, তারা আল্লাহর কিতাবের জ্ঞান সর্বসাধারণ্যে প্রচার করার পরির্বতে তাকে রাব্বী ও একটি সীমিত ধর্মীয় পেশাদার গোষ্ঠীর মধ্যে আবদ্ধ রেখেছিল। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ জনমানুষ তো দূরের কথা ইহুদি জনতাকেও এই জ্ঞানের স্পর্শ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। সাধারণ অজ্ঞতার কারণে জনগণ যখন ব্যাপকভাবে ভ্রষ্টতার শিকার হলো তখন ইহুদি আলেমসমাজ জনগণের চিন্তাও কর্মের সংস্কার সাধনে ব্রতী হয়নি। বরং উল্টো জনগণের মধ্যে নিজেদের জনপ্রিয়তা অব্যাহত রাখার জন্য যে ভ্রষ্টতা ও শরীয়াত বিরোধী কর্ম জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তো তাকে তারা নিজেদের কথা ও কাজের সাহায্যে অথবা নীরব সমর্থনের মাধ্যমে বৈধতার ছাড়পত্র দান করতো। এই ধরনের প্রবণতা ও কর্মনীতি অবলম্বন না করার জন্য মুসলমানদেরকে তাকীদ করা হচ্ছে। সমগ্র বিশ্ববাসীকে হিদায়াত করার গুরুদায়িত্ব যে উম্মাতের ওপর সোপন্দ করা হয়েছে , সেই হিদায়াতকে কৃপণের ধনের মতো আগলে না রেখে বেশী করে সম্প্রসারিত করাই হচ্ছে তার কর্তব্য।</p>
<p style="text-align: justify;"> ১৬০  তবে যারা এই নীতি পরিহার করে, নিজেদের কর্মনীতি সংশোধন করে নেয় এবং যা কিছু গোপন করে যাচ্ছিল সেগুলো বিবৃত করতে থাকে , তাদেরকে আমি ক্ষমা করে দেবো আর আসলে আমি বড়ই ক্ষমাশীল ও করুণাময়।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://alhudaonline.com/?feed=rss2&#038;p=1071</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>মে দিবস ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রমিকের অধিকার</title>
		<link>http://alhudaonline.com/?p=1068</link>
		<comments>http://alhudaonline.com/?p=1068#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 05 May 2013 13:48:00 +0000</pubDate>
		<dc:creator>mamunipc</dc:creator>
				<category><![CDATA[Uncategorized]]></category>
		<category><![CDATA[featured]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রমিকের অধিকার]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://alhudaonline.com/?p=1068</guid>
		<description><![CDATA[ধার্মিক ব্যক্তি কোন অবস্থায়ই কাজ করতে ভয় পায় না, বরং কর্মকে নিজের সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক বলে মনে করে। মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য চেষ্টা ও শ্রমের কোন বিকল্প নেই। কারণ মানুষের প্রকৃতির সঙ্গে শ্রমের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং কাজ করতে যার অনীহা, সে আসলে মানবতা এবং ধর্মীয় সংস্কৃতি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি।   ১ [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<div id="attachment_1069" class="wp-caption alignright" style="width: 255px"><a href="http://alhudaonline.com/wp-content/uploads/2013/05/may1-245x300.jpg"><img class="size-full wp-image-1069 " alt="ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রমিকের অধিকার" src="http://alhudaonline.com/wp-content/uploads/2013/05/may1-245x300.jpg" width="245" height="300" /></a><p class="wp-caption-text">ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রমিকের অধিকার</p></div>
<p style="text-align: justify;"><span style="font-size: 13px; line-height: 19px;">ধার্মিক ব্যক্তি কোন অবস্থায়ই কাজ করতে ভয় পায় না, বরং কর্মকে নিজের সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক বলে মনে করে। মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য চেষ্টা ও শ্রমের কোন বিকল্প নেই। কারণ মানুষের প্রকৃতির সঙ্গে শ্রমের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং কাজ করতে যার অনীহা, সে আসলে মানবতা এবং ধর্মীয় সংস্কৃতি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি। </span></p>
<p style="text-align: justify;"> ১ মে বিশ্ব শ্রমিক দিবস। ১৮৮৬ সালের ১লা মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হাজার হাজার শ্রমিক তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের জন্য প্রতিবাদ বিক্ষোভে নেমেছিলেন। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১১ জন শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটে এবং এক পর্যায়ে মার্কিন সরকার শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া মেনে নিতে বাধ্য হয়। তখন থেকে সারাবিশ্বে ১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে ১লা মে নানা কর্মসূচি পালন করে। শ্রমিকদের পাশাপাশি নানা শ্রেণী-পেশার লোকজন মে দিবসের শোভাযাত্রায় অংশ নেন। যুগে যুগে আন্দোলন করে সাধারণ লোকজন তাদের দাবী আদায় করে নিয়েছেন। আন্দোলনের বিকল্প নাই। যৌক্তিক আন্দোলনও সর্বজন স্বীকৃত।</p>
<p style="text-align: justify;">মানবতার মুক্তির বিধান ইসলাম, তথা ইসলাম হলো পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। এই জীবন বিধানে সব মানুষের বিশেষ করে শ্রমিকদের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে শ্রমিকের হাতে চুমু খেতেন। তাবুকের যুদ্ধ শেষে আল্লাহর রাসূল যখন মদীনায় ফিরে আসেন তখন বিশিষ্ট সাহাবি সাদ আনসারি তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। রাসূলুল্লাহ আনসারির সঙ্গে হাত মিলিয়ে তার হাতের তালুতে কঠোর পরিশ্রমের ফলে সৃষ্ট খসখসে দাগ অনুভব করেন। তিনি বুঝতে পারেন, অধিক পরিশ্রমের ফলে সাদ আনসারির হাতের তালু ফেটে গেছে। তিনি আনসারির হাতে চুমু খেয়ে বললেন, এই হাতে কখনো জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। (উসুদুল গাবাহ)</p>
<p style="text-align: justify;">ইসলাম শ্রমিক শ্রেণীকে শ্রেষ্ঠতম বিশেষণে ভূষিত করেছে। ইসলাম সংসারের ভরণপোষণের জন্য হালাল উপায়ে উপার্জনকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের সঙ্গে তুলনা করেছে এবং শ্রমিককে আল্লাহর পথের মুজাহিদ বলে উল্লেখ করেছে।</p>
<p style="text-align: justify;">ইসলামের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনার একটি হচ্ছে জীবনের সব অবস্থায় পরিশ্রম করে যেতে হবে এবং কোন অবস্থায়ই হাত গুটিয়ে বসে থাকা যাবে না। পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জনকে ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। এ সম্পর্কে বিশ্বনবী (সা) এর একটি বক্তব্য উল্লেখ করা যায়। তিনি বলেছেন, যদি তোমার হাতে একটি চারাগাছ থাকে এবং তুমি জানো যে কিছুক্ষণ পর তুমি মারা যাবে কিংবা কিছুক্ষণ পর কেয়ামত শুরু হয়ে যাবে, তারপরও তুমি সেটি রোপন করে মারা যাও। আল্লাহর প্রেরিত সব মহাপুরুষ, নবী, রাসূল ও আম্বিয়ায়ে কেরাম কায়িক পরিশ্রম করে সংসার চালিয়েছেন এবং তারা নিজেদেরকে শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে গর্ববোধ করতেন। তারা অন্যদেরও কঠোর পরিশ্রম করার উপদেশ দিয়ে গেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মসজিদে নববী স্থাপনের সময় সাহাবিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন, ছোট-বড় পাথর বহন করেছেন, শরীরের ঘাম ঝরিয়েছেন। সাহাবিরা শ্রদ্ধাবনত চিত্তে রাসূলকে বিশ্রাম করার পরামর্শ দিলেও তিনি তা শোনেননি, বরং নিজের কাজ চালিয়ে গেছেন।</p>
<p style="text-align: justify;">শ্রমিকের মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রেও ইসলামের কঠোর দিক নির্দেশনা রয়েছে। শ্রমিকের অধিকারের প্রতি ইসলাম যতটা গুরুত্ব দিয়েছে, তার নজীর অন্য কোন ধর্ম বা চিন্তাদর্শে পাওয়া যাবে না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) শরীরের ঘাম শুকানোর আগেই শ্রমিকের পারিশ্রমিক দিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।</p>
<p style="text-align: justify;"> দেশ ও সমাজের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে পরিশ্রম। প্রতিটি জাতির ভাগ্যের উন্নয়ন নির্ভর করছে ওই জাতি কতটা পরিশ্রমী তার ওপর। এ কারণে ইসলাম কাজ করার প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগানোর নিদেশ দিয়েছে। হযরত আলী (আঃ) এ সম্পর্কে বলেছেন : কঠোর পরিশ্রমী ব্যক্তি জীবনে সফল হয়, বুদ্ধিমান অলস ব্যক্তি নয়। কাজেই যে সমাজের বুদ্ধিমান ও চিন্তাশীল ব্যক্তিরা দেশের কাজে আত্মনিয়োগ করে, সে সমাজই সফলতা অর্জন করে।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://alhudaonline.com/?feed=rss2&#038;p=1068</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>
